অ্যাসিডদগ্ধ শামীমা পেলেন শিক্ষাবৃত্তি

নওগাঁ প্রতিনিধি | আপডেট: ০১:২৪, ডিসেম্বর ২২, ২০১৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

 নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার চকদূর্গারায়ান গ্রামের অ্যাসিড-সন্ত্রাসের শিকার কলেজছাত্রী শামীমা আক্তারকে প্রথম আলো ট্রাস্টের অধীনে অ্যাসিডদগ্ধ নারীদের সহায়তা তহবিল থেকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে শিক্ষাবৃত্তির প্রথম মাসের টাকা তুলে দেন ইউএনও আবদুল মালেক।

শিক্ষাবৃত্তি পেয়ে শামীমা আক্তার বলেন, ‘লেখাপড়া শিখে আমি নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। অ্যাসিডদগ্ধ হওয়ার পর আমার চিকিৎসার জন্য সংসারের অনেক টাকা খরচ হয়েছে। গরিব বাবার পক্ষে আমার শিক্ষার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয়। প্রথম আলো আমার সহায় হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে। এ জন্য প্রথম আলোকে ধন্যবাদ জানাই। আর যাঁর কারণে আমার এই অবস্থা, তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’ শামীমা বর্তমানে নজিপুর মহিলা কলেজে ডিগ্রি প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করছেন। তাঁর লেখাপড়া চলা অবস্থায় প্রথম আলোর ট্রাস্টের পক্ষ থেকে তাঁকে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হবে।
শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নজিপুর মহিলা কলেজের আইসিটি বিভাগের প্রভাষক আনিছুর রহমান। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো ট্রাস্টের কর্মসূচি সমন্বয়কারী ফেরদৌস ফয়সাল, শামীমার বাবা মোকসেদুল ইসলাম, ঢাকার সানিডেল স্কুলের ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম খান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ইউএনও আবদুল মালেক বলেন, ‘প্রথম আলোসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে লেখালেখি হওয়ায় এখন অ্যাসিড-সন্ত্রাস কিছুটা কমেছে। প্রথম আলো এই অসহায় নারীর পাশে দাঁড়ানোয় খুব ভালো লেগেছে।’
অ্যাসিডদগ্ধ নারীদের জন্য প্রথম আলো সহায়ক তহবিলের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৪৫০ জন নারীকে পুনর্বাসন করা হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে তথ্য দেন ফেরদৌস ফয়সাল।
শামীমার বাবা মোকসেদুল বলেন, ‘২০১২ সালের ২১ মে আমার মেয়ের মুখে ও শরীরে অ্যাসিড নিক্ষেপ করেন তাঁর স্বামী শহিদুল ইসলাম। শামীমা লেখাপড়া চালিয়ে যাক, এটা সে চাইত না। অনেক চেষ্টা করেও আমার মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ করতে না পারায় তাঁর মুখে অ্যাসিড ছুড়ে দেয়। ঘটনার পর থেকে শহিদুল জেল-হাজতে থাকলেও আজ চার বছর ধরে মামলাটি বিচারাধীন।’ মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করে শহিদুলকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান মোকসেদুল।