এবার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন তাঁদের

অদম্যমেধাবী

অদম্যমেধাবী

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন তাঁরা। ভালো ফল করার পরও তাঁরা ছিলেন দিশেহারা। কীভাবে পড়াশোনা করবেন, এ নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত ছিল না তাঁদের। ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট তাঁদের পাশে দাঁড়ায়, উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা পর্যন্ত পড়ার জন্য দেয় শিক্ষাবৃত্তি। সে সময় শিক্ষার্থীরা প্রতিজ্ঞা করেন, এইচএসসিতেও ভালো ফল করবেন। সব বাধা পেরিয়ে এসব অদম্য মেধাবীর বেশির ভাগ কথা রাখতে পেরেছেন।
২০১১ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া এই ৫০ জনকে ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট শিক্ষাবৃত্তি দেয়। এর মধ্যে ২৭ জনই চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। শুরুতেই চারজন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন, আর একজন অসুস্থতার কারণে পরীক্ষা দিতে পারেননি, আরেকজন পরীক্ষার আগেই সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেন। বাকিদের মধ্যে তিনজন পেয়েছেন ৩ দশমিক ৫, অন্যরা সবাই ৪ দশমিক ৬ থেকে ৯।
ভালো ফল করা অদম্য মেধাবীদের চোখে এখন বড় স্বপ্ন। তাঁদের কেউ হতে চান প্রকৌশলী। কেউ চিকিৎসক হয়ে দরিদ্র মানুষের সেবা করতে চান। কেউবা হতে চান মানুষ গড়ার কারিগর—শিক্ষক। অবশ্য ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী বৃত্তিও তাঁদের সঙ্গী হয়ে থাকছে। এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া ২৬ জন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পেলেই পাবেন উচ্চশিক্ষা বৃত্তি।
ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করে ভালো ফল করেছেন এসব অদম্য মেধাবী। এ জন্য কৃতজ্ঞতার শেষ নেই তাঁদের। অনেকে বললেন, সহায়তা না করলে এত ভালো ফল করা সম্ভব হতো না। আবার অনেকে জানান, প্রথম আলো ট্রাস্ট পাশে না দাঁড়ালে হয়তো তাঁদের পড়াশোনাই বন্ধ হয়ে যেত।
সারা দেশে প্রথম আলো প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয় অদম্য মেধাবীদের। আর ওই প্রতিনিধিদের তত্ত্বাবধানেই ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বৃত্তি দেওয়া হয় তাঁদের। এবার এই অদম্য মেধাবীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের উদ্দীপ্ত আকাঙ্ক্ষা আর দেশ গড়ার স্বপ্নের কথা এবার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন তাঁদেরজানাচ্ছেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা:
এবারও সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন মুক্তা: সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার বেলকুচি কলেজের বাণিজ্য বিভাগের ছাত্রী মুক্তা খাতুন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
এসএসসিতেও তিনি জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। মুক্তার বাড়ি বেলকুচি উপজেলার গাড়ামাসী গ্রামে। তাঁর বাবা পেশায় তাঁতশ্রমিক। মুক্তার স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার।
ধারা বজায় রেখেছেন নিলয় কুণ্ড: বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ পাররদী গ্রামের দীলিপ কুণ্ডের পুত্র নিলয় কুণ্ড। প্রাইভেট পড়িয়ে গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন তিনি। ফলের ধারাও বজায় রেখেছেন। এবার বরিশাল অমৃত লাল দে কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিলয় কুণ্ড সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। নিলয় প্রকৌশলী হতে চান।
তাসলিমার সাফল্য: জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী সিরাজুল হক ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আবারও জিপিএ-৫ পেয়েছেন তাসলিমা আক্তার। ভবিষ্যতে তিনি ব্যাংকার হতে চান। তাসলিমার বাবা নূরুল ইসলাম একজন বর্গাচাষি।
কথা রেখেছেন সুমন: বগুড়ার ধুনটের সুমন কুমার সাহা বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। দরিদ্র পরিবারের সন্তান সুমন কুমার সাহা বলেন, ‘এসএসসি পাসের আগে আমি পড়ালেখার পাশাপাশি হাটবাজারসহ বিভিন্ন মেলায় বাদাম বিক্রি করেছি। পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ার পর আমি সব কষ্ট ভুলে গেছি।’
সব বাধা পেরিয়েছেন আছিয়া: এইচএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পেয়েছেন দরিদ্র বাবা-মায়ের সন্তান আছিয়া খাতুন ডালিয়া। বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের বাণিজ্য বিভাগের ছাত্রী ছিলেন তিনি। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ডোমনপুকুর গ্রামের জামাল হোসেন আকন্দের মেয়ে আছিয়া খাতুন। আছিয়ার স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার। বিবিএ পড়ে তিনি ব্যাংকার হতে চান।
সুজনও কথা রেখেছেন: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার হাটপাঙ্গাসী গ্রামের বাবলু কুমার ভাদুরী ও মনিকা রানী ভাদুরীর ছেলে সুজন কুমার ভাদুরী। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন তিনি। এইচএসসিতে বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন সুজন। চিকিৎসক হয়ে অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান তিনি।
বিধবা মায়ের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন শাকিলা আক্তার: দুই বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছেন মোছা. শাকিলা আক্তার। তার পরও দমে যাননি তিনি। বগুড়ার দুপচাঁচিয়া মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার শিবপুর গ্রামের ভূমিহীন মৃত ইছাহাক আলীর মেয়ে শাকিলা ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে দুস্থ মানুষের সেবা করতে চান।
শামীম রেজার সাফল্য: কথা রেখেছেন শামীম রেজা। রাজশাহীর বাগমারা মহাবিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ভ্যানচালকের সন্তান শামীম রেজা। এসএসসিতে একই ফল ছিল শামীমের। পড়াশোনার খরচ জোগাতে এসএসসি পরীক্ষার আগে বাবার সঙ্গে তাঁকেও ভ্যান চালাতে হয়েছে। তবে প্রথম আলো ট্রাস্টের সহযোগিতা পাওয়ায় তাঁকে আর ভ্যান চালাতে হয়নি।
‘হ্যালো ভাইয়া, আমি কথা রেখেছি’: ‘হ্যালো ভাইয়া, আমি কথা রেখেছি। এবারও জিপিএ-৫ পেয়েছি। প্রথম আলোর সহযোগিতার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’ মুঠোফোনে এভাবে প্রথম আলোর প্রতিনিধিকে পরীক্ষার ফলাফলের কথা জানান আলী হোসেন। যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাস করেছেন এই অদম্য মেধাবী। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কেদারনগর গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর মো. আলাউদ্দিনের ছেলে আলী হোসেন। তাঁর লক্ষ্য কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়াশোনা করা।
ফেরদৌসীও কথা রেখেছেন: জান্নাতুল ফেরদৌসীও কথা রেখেছেন। রংপুরের গঙ্গাচড়া ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি। গঙ্গাচড়া মডেল উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। সদর ইউনিয়নের কলেজপাড়া গ্রামে অন্যের ভিটিতে টিনের চালায় বাস করে তাঁর পরিবার। পড়ার টেবিল না থাকলেও চৌকিতে বসে পড়াশোনা করে ভালো ফল করেন ফেরদৌসী।
নিরাশ করেননি রাকিবুল: রাকিবুল ইসলাম কথা দিয়েছিলেন, এইচএসসিতে ভালো ফল করবেন। তিনি কথা রেখেছেন, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এই অদম্য মেধাবীর বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার আমরুলবাড়ী হাটখোলাপাড়া গ্রামে। তিনি দিনাজপুরের পার্বতীপুর খোলাহাটি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। ছেলের সাফল্যে খুব খুশি তাঁর দিনমজুর বাবা মোস্তফা কামাল ও মা আরজেনা বেগম। রাকিবুল প্রকৌশলী হতে চান।
আবিদার চমক: আবারও চমক দেখিয়েছেন পটুয়াখালীর আবিদা জান্নাত নীপা। এইচএসসি পরীক্ষায়ও পটুয়াখালীর এ কে এম কলেজ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি। পটুয়াখালী শহরের চরপাড়া এলাকায় একটি ছোট্ট ঘরে আবিদা, তাঁর মা ও এক বোনের বসবাস। ২০১২ সালে আবিদার বাবা মারা যান। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে ব্যাংকার হতে চান আবিদা।
জিপিএ-৫ পেয়েছেন নিজামুল ও লাইজু: নিজামুল কবির ও লাইজু খাতুন এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এই দুই অদম্য মেধাবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চান। নিজামুল কবির সোহাগ কালীগঞ্জ উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে। সাখাওয়াত হোসেন পেশায় কৃষিশ্রমিক। সোহাগ এসএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। কালীগঞ্জ মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি।
লাইজু খাতুন একই উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী মতলেব হোসেনের মেয়ে। লাইজু এসএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন।
চিকিৎসক হতে চান ফারজানা: এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ফারজানা আক্তার। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। ফারজানার বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সওদাগরপাড়া গ্রামে। তিনি চিকিৎসক হতে চান।
ভূমিহীন পরিবারের মেয়ে সাহিদা পড়তে চান ঢাকাতেই: আবারও পরিবারকে আশার আলো দেখাতে পেরেছেন। নাটোরের সাহিদা বেগম বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ঢাকার হামদর্দ কলেজ থেকে। এই কলেজ তাঁকে বিনা খরচে পড়ালেখার সুযোগ করে দেয়। সাহিদা বলেন, ‘সবার সহযোগিতা পেলে যত কষ্টই হোক, ঢাকাতেই উচ্চশিক্ষা নেব।’
কথা রেখেছেন নেপাল চন্দ্র বর্মণ: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাটিতাকান্দি গ্রামের জেলেপাড়ার হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান নেপাল চন্দ্র বর্মণ। চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ার সময় বাবা হারানো নেপাল ভূঞাপুরের ইব্রাহীম খাঁ কলেজ থেকে এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়ে আনন্দিত। তিনি বলেন, ‘আমি কথা দিয়েছিলাম, কথা রাখতে পেরেছি। সে জন্য খুবই খুশি লাগছে।’ দেখছেন চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন।
মরিয়ম খানমের যুদ্ধ চলবেই: পরিবারের আর্থিক দুর্দশার মধ্যে টিউশনি আর সেলাইয়ের কাজ করে লেখাপড়া চালানো মরিয়ম খানম শিমুল এবার কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
মাথানত করেননি কুসুম: দারিদ্র্যের কাছে মাথানত করেননি, বরং তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে পরাজিত করেছেন। কুসুম আক্তার দুবাইপ্রবাসী মো. ইকতার উদ্দিনের সহায়তায় অদম্য মেধাবী বৃত্তিতে অন্তর্ভুক্ত হন। তাঁর স্বপ্ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষে একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়া।
ইচ্ছা থাকলে অভাব বাধা নয়—প্রমাণ করেছেন লিমন: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার রহিমাবাদ গ্রামের লিমন হোসেন মানবিক বিভাগে তালা সরকারি কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এইচএসসি পরীক্ষার পর তিনি প্রাইভেট পড়িয়ে টাকা জমিয়েছেন। সেই টাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আবারও সাফল্য কাঁদাল নুরুজ্জামানকে: নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি কারিগরি মহাবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পাওয়া নুরুজ্জামান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এসএসসিতে ভালো ফল করলেও প্রথম আলো পাশে না দাঁড়ালে এইচএসসি পাস করা হতো না।’
রানা সরকারের ইচ্ছা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হওয়া: রানা সরকার কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ার সময় থেকে তিনি বাদাম বিক্রি করছেন। রানা তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।
বেহেস্তমা আইনজীবী হতে চান: বেহেস্তমা খাতুন কুড়িগ্রাম সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন। দারিদ্র্য তাঁর বাধা হতে পারবে না। উচ্চশিক্ষা নিয়ে মনোনিবেশ করতে চান আইন পেশায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান শাহাদাত: কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় জিপিএ-৫ পান চাঁদপুরের শাহরাস্তির মো. শাহাদাত হোসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইবিএতে পড়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
হযরত আলীর মেধার স্বাক্ষর: দরিদ্র কৃষকের ছেলে হযরত আলী মাধ্যমিকের মতো উচ্চমাধ্যমিকেও জিপিএ-৫ পেয়েছেন। শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার আবদুল মান্নান মল্লিকেরকান্দি গ্রামের আলী আহমঞ্চদ মীরের ছেলে হযরত আলী। শরীয়তপুরের বি কে নগর বঙ্গবন্ধু কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করা হযরত আলীর স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার।
পেরেছেন জহুরুল ইসলামও: জহুরুল ইসলাম এইচএসসিতেও জামালপুরের সরিষাবাড়ী কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের জহুরুল ইসলাম ভবিষ্যতে শিক্ষক হতে চান। তাঁর বাবা আবদুল জলিল (৪৫) দিনমজুরের কাজ করেন।
২০০৪ সাল থেকেই প্রথম আলো অদম্য মেধাবীদের মেধার যত্নে এগিয়ে আসে। বিচ্ছিন্নভাবে বৃত্তি দেওয়া হয় বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে। এরপর দেশ-বিদেশে নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ ও প্রতিষ্ঠান এই কাজের প্রশংসা করে এবং এগিয়ে আসে।
২০০৭ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম আলো অদম্য মেধাবী বৃত্তি চালু করে। এরপর ২০১০ সাল থেকে ব্র্যাক ব্যাংক যুক্ত হলে চালু করা হয় ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী বৃত্তি। সারা দেশে অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে অভাবকে দূরে ঠেলে দিয়ে যেসব শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায়, তাদের মধ্য থেকেই বৃত্তির জন্য বাছাই করা হয়। বাছাই করার ক্ষেত্রে নারী শিক্ষা, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী, সংখ্যালঘুসহ নানা বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। দুই বছর পড়াশোনার পর এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলে দেওয়া হয় উচ্চশিক্ষা বৃত্তি।
ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট উচ্চশিক্ষা বৃত্তি পাওয়া অদম্য মেধাবীরা দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেন।