নওগাঁ ও ফরিদপুরে কম্বল পেলেন ১২৫ শীতার্ত মানুষ

নওগাঁ প্রতিনিধি ও ফরিদপুর অফিস | আপডেট: ০২:২৭, জানুয়ারি ১৬, ২০১৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে গতকাল ফরিদপুর শহরে হরিজন সম্প্রদায়ের নারীদের হাতে কম্বল তুলে দেন প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা l ছবি: প্রথম আলোনওগাঁ ও ফরিদপুরে ১২৫ শীতার্ত মানুষকে কম্বল দেওয়া হয়েছে। প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে দুটি স্থানেই কম্বলগুলো দেওয়া হয় গতকাল রোববার।

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় ১০০ দরিদ্র শিক্ষার্থীর মধ্যে কম্বলগুলো দেওয়া হয় এক্সিম ব্যাংকের সহযোগিতায়। শিক্ষার্থীদের সবাই উপজেলার বড় মহেশপুর আদিবাসী বেসরকারি বিদ্যালয়ের দরিদ্র শিক্ষার্থী। কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর নওগাঁ বন্ধুসভার সভাপতি তসলিমা ফেরদৌস, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ চৌধুরী, বড় মহেশপুর আদিবাসী বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হীরালাল পাহান, প্রথম আলোর নওগাঁ প্রতিনিধি ওমর ফারুক প্রমুখ।
কম্বল পেয়ে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হীরালাল পাহান বলেন, ‘এই এলাকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের অধিকাংশই হতদরিদ্র। আমাদের বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই দরিদ্র পরিবারের। তীব্র শীতের মধ্যে গরম কাপড় না থাকার কারণে প্রায়ই শীতজনিত রোগে ভোগে। কম্বল পেয়ে ছেলেমেয়েদের খুব উপকার হলো। শীতার্ত মানুষের পাশে থাকার জন্য প্রথম আলোকে ধন্যবাদ জানাই।’
প্রথম আলো নওগাঁ বন্ধুসভা জরাজীর্ণ এই বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সার্বিক সহযোগিতা করে আসছে।
ফরিদপুরে প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে শহরের হরিজন পল্লিতে ২৫ জন দুস্থ বয়স্ক মানুষের হাতে কম্বল তুলে দিয়েছে ফরিদপুর বন্ধুসভা। ঢাকা ব্যাংকের সহায়তায় বিকেলে শহরের আলীপুরস্থ হরিজন পল্লির মন্দিরের সামনে কম্বলগুলো বিতরণ করা হয়।
কম্বল হাতে পেয়ে হরিজন পল্লির বাসিন্দা মন্টু জমাদার (৭০) বলেন, ‘এই শীতের মধ্যে কেউ আমাগো সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও দুই ছেলেকে নিয়ে খুব কষ্টের মধ্যে ছিলাম। এই কম্বল দিয়া এবার শান্তিতে ঘুমাতে পারব।’ কিশোর জমাদার (৫৫) বলেন, ‘আমরা শীতে কাবু হই, বৃষ্টিতে ভিজি, ঝড়ে ঘর ভাঙে। কেউ আমাদের দিকে একটু ফিরাও তাকায় না। আজ প্রথম আলো আমাদের প্রতি সদয় হয়েছে।’