নির্যাতিত সাংবাদিক সহায়ক তহবিল নহর আলীর পরিবারের সামনে ভবিষ্যতের নতুন স্বপ্ন

প্রচণ্ড খরায় মৃতপ্রায় দুর্বাঘাস বৃষ্টির পানি পেয়ে যেমন লকলকিয়ে ওঠে, তেমনি প্রথম আলো পাশে দাঁড়ানোয় এখন দুশ্চিন্তামুক্ত ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে পাচ্ছি। প্রথম আলো আমাকে যা দিয়েছে, তা থেকে সচ্ছলতা ফিরবে আমার সংসারে। স্বামীর শেষ ইচ্ছে মেয়ে হীরার সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্নও পরণ হবে। অনেক কেঁদেছি। আমার চোখের পানি বিফলে যায়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোর নির্যাতিত সাংবাদিকদের সহায়তা তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত দোকানঘর ও ২০ হাজার টাকার মালামাল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত খুলনার সাংবাদিক নহর আলীর বিধবা স্ত্রী আসমানী বেগম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এ কথাগুলো বলেন।

ডুমুরিয়া উপজেলার শোভনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ মতিয়ার রহমান বাচ্চুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান ও প্রথম আলো সহায়ক তহবিলের উপদেষ্টা ডা. সামন্তলাল সেন এবং ঢাকার সানিডেল স্কুলের অধ্য তাজিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে মতিউর রহমান বলেন, শোভনার বাঁধরার আন্দোলনের কথা ছোটবেলায় শুনেছি। এখানকার বিশিষ্ট ব্যক্তি বিষ্ণু চ্যাটার্জির লেখা বই এখনো আমার কাছে আছে। সেই শোভনার বাসিন্দা সাংবাদিক নহর আলী সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হয়েছেন। তার স্ত্রী  আসমানী ও ছেলেমেয়েদের দেখার দায়িত্ব আমাদের। এই পরিবার এখন আর একা নয়। ওদের পাশে প্রথম আলো আছে। তিনি বলেন, হীরার পড়াশোনায় প্রথম আলোর প থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে সে প্রথম আলোতে কাজ করতে পারে।
প্রথম আলোর সম্পাদক বলেন, সারা দেশে অনেক সাংবাদিক নির্যাতিত হয়েছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন। এই সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যেরা যারা কষ্টে আছেন, পর্যায়ক্রমে তাদের সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া নহর আলীর পরিবার দিয়ে শুরু হয়েছে। তিনি পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আর্কষণ করে বলেন, আপনারাও এগিয়ে আসুন। অসহায় সাংবাদিকদের পাশে এসে দাঁড়ান।
ডা. সামšলাল সেন বলেন, নিহত সাংবাদিক নহর আলীর পরিবারের চিকিৎসাবিষয়ক যেকোনো প্রয়োজনে আমি পাশে থাকব। ঢাকার সানিডেল স্কুলের অধ্য তাজিন আহমেদ বলেন, আমাদের দেওয়ার সাধ অনেক, তবে সীমাবদ্ধতা আছে। তারপরও আমার স্কুলের পক্ষ থেকে সাংবাদিক নহর আলীর পরিবারকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করছি। তাৎণিক এই টাকা তিনি নহর আলীর স্ত্রী  আসমানীর হাতে তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতায় অনুষ্ঠানের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বাচ্চু এই উদ্যোগের জন্য স্বাগত জানান।
প্রথম আলোর ডুমুরিয়া প্রতিনিধি কাজী আবদুল্লাহর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় অধিবাসী সরদার আবদুল গনি, পল্লীশ্রী কলেজের অধ্য অপর্ব বৈদ্য, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম, ফেরদৌস ফয়সালসহ প্রমুখ।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শিবপুর-বদরগাছা এলাকার জিয়ালতলা গ্রামের এস এম নহর আলী কাজ করতেন আঞ্চলিক দৈনিক অনির্বাণে। ২০০১ সালের ১৭ এপ্রিল রাত একটার দিকে সন্ত্রাসীরা তার ওপর নৃশংস অত্যাচার চালায়। ২১ এপ্রিল ভোরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। সেই থেকে পরিবারটি ভীষণ কষ্টে আছে।