মাদককে ‘না’ বলতে পারাটাই আধুনিকতা

নিজস্ব প্রতিবেদক | নভেম্বর ২৬, ২০১৫ |

উত্তরার স্কলাসটিকা স্কুলে গতকাল মাদক পরামর্শ সহায়তা অনুষ্ঠানে গান করেন শিল্পী মেহরীন। প্রথম আলো ট্রাস্টের মাদকবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠান হয় l প্রথম আলো

উত্তরার স্কলাসটিকা স্কুলে গতকাল মাদক পরামর্শ সহায়তা অনুষ্ঠানে গান করেন শিল্পী মেহরীন। প্রথম আলো ট্রাস্টের মাদকবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠান হয় l প্রথম আলো

তোমার বন্ধু বলল, ‘চলো মাদক নিই।’ তুমি বলবে, ‘না’। ‘না’ বলতে পারাটাই আধুনিকতা। অধিকাংশ শিক্ষার্থীই বন্ধুদের চাপে মাদক নেয়। এ ক্ষেত্রে তোমাকে অবশ্যই স্পষ্টবাদী হতে হবে। ‘না’ বলাটা কঠিন হলেও বলতে হবে। নিজেকে রক্ষা করার দায়িত্ব তোমারই। তুমি স্পষ্ট ‘না’ বলে দেবে।

গতকাল বুধবার উত্তরায় স্কলাসটিকা স্কুল মিলনায়তনে আয়োজিত ‘আসুন মাদকমুক্ত থাকি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কথাগুলো বলেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক। মাদক সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রথম আলো ট্রাস্ট মাদকবিরোধী আন্দোলন এ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে দুই দফায় প্রায় দুই শ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে প্রথম আলো মাদকবিরোধী আন্দোলনের উপদেষ্টা ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ড. মোহিত কামাল বলেন, ‘মাঝেমধ্যেই আমার কাছে মাদকাসক্ত ছেলেমেয়ের অভিভাবকেরা পরামর্শ নিতে আসেন। প্রথমে আমি তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই। তাদের আসক্তির ভয়াবহতা নিয়ে ভাবলেই আমার বুকে কাঁপন ধরে যায়। বুঝি, মাদক নিতে নিতে মানব একসময় দানবে পরিণত হয়। মাদকাসক্তি মানসিক রোগ। মাদক আমাদের জীবনাচরণকে বিপথে পরিচালিত করে। অন্ধকার ও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। মাদক পচা শামুক। সংস্পর্শে গেলেই পা কাটবে।’
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেয়। শিক্ষার্থীরা তাকে খোলামেলা প্রশ্ন করলে তিনি পরামর্শ সহায়তা দেন। এ সময় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রায়ান ফারহাব জনশ্রুতি উল্লেখ করে বলে, ‘শুনেছি, মারিজুয়ানার (গাঁজা) কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। ব্যাপারটা কি ঠিক?’ উত্তরে মোহিত কামাল বলেন, মাদক রাসায়নিক দ্রব্য। গাঁজায় যে ক্ষতিকর পদার্থ রয়েছে, তা বিষধর সাপ কোবরার বিষের সমান।
একাদশ শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী জেরিন সুবহা জানতে চায়, মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে না নিয়ে বাসা থেকে কি মাদকাসক্ত ব্যক্তির চিকিৎসা সম্ভব? উত্তরে বিশেষজ্ঞ জানান, হ্যাঁ। তবে এ ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা লাগবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সব শিক্ষার্থীই মাদক না নেওয়ার প্রতিজ্ঞা করে। সবশেষে সংগীত পরিবেশন করেন মেহরিন , আমিদ হোসেন চৌধুরী ও এপিরাস। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্কুলের অধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কায়সার আহমেদ ও নির্বাহী যোগাযোগ সমন্বয়কারী জিয়া হাশান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রথম আলো ট্রাস্টের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক ফেরদৌস ফয়সাল।