মাদকবিরোধী আন্দোলন দুই তরুণের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

সামছুর রহমান | আপডেট: ০০:২৮, নভেম্বর ১১, ২০১৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

 রাকেশ এখন মাদকবিরোধী অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের পরামর্শ দেনরাকেশ ভৌমিক ও মাহমুদুর রহমান—দুজনের জীবনের গল্পে বেশ মিল। মাদকের চোরাবালি থেকে উঠে দাঁড়িয়ে দুজনই এখন সুস্থজীবন যাপন করছেন। প্রথম আলো মাদকবিরোধী আন্দোলনের অংশ হয়ে তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন নতুন জীবনের সন্ধান।

রাকেশের ঘুরে দাঁড়ানোয় বড় ভূমিকা ছিল তাঁর মা নিলু ভৌমিকের। রাকেশ বলেন, ‘মা খুব করে চাইতেন আমি সুস্থ হই। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে তিনি প্রথম আলো ট্রাস্টের মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা অনুষ্ঠানে যাওয়া শুরু করেন। প্রতি মাসে যেতেন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ শুনতেন।’ মা নিলু ভৌমিক এ বছরের শুরুতে চলে গেছেন না–ফেরার দেশে।
রাকেশ সাড়ে ছয় মাস চিকিৎসা নেন মাদকাসক্ত মানুষের জন্য পুনর্বাসনকেন্দ্র ‘আপন’-এ। তারপর দুই মাস সেখানে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেন। সুস্থ হওয়ার পর থেকে প্রথম আলোর মাদকবিরোধী আয়োজনের নিয়মিত আয়োজন—পরামর্শ সহায়তার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন তিনি। একসময় পরামর্শ নিতে আসা অভিভাবকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দিতে শুরু করেন। এখন তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী।
‘মাদককে না বলো’ স্লোগানে প্রথম আলো ট্রাস্ট এ পর্যন্ত ৭৫টি মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে যাঁরা মাদকের অন্ধকার জীবন থেকে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন, তাঁদেরই একজন মাহমুদুর রহমান। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী প্রায় ১০ বছর ছিলেন মাদকের সংস্পর্শে। কৌতূহলের বশে শুরু করলেও একসময় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়েন মাদকের বেড়াজালে।
নেশার চোরাস্রোতে তলিয়ে যেতে থাকা সজীবকে টেনে তুলেছেন তাঁর মা শাহীনুর সুলতানা। সজীব বলেন, ‘আম্মা প্রথম আলো ট্রাস্টের প্রতি মাসের মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তার খোঁজ পেয়ে সেখানে যান। সেখানে ডা. মোহিত কামালের সঙ্গে মায়ের কথা হয়। স্যারের পরামর্শে আমার চিকিৎসা শুরু হয়।’ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিয়ে চার বছর ধরে সুস্থজীবন যাপন করছেন তিনি। এখন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন।

প্রথম আলো ট্রাস্ট মাদকবিরোধী আন্দোলনের নানা কার্যক্রম: টেলিফোনে ও সরাসরি পরামর্শ সহায়তা, গোলটেবিল, শোভাযাত্রা, মানববন্ধন, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মাদকবিরোধী বন্ধুমেলা, কনসার্টসহ ২৬ জুন বিশ্ব মাদকমুক্ত দিবস উপলক্ষে সারা দেশে বিভিন্ন আয়োজন করা হয়। এর পাশাপাশি প্রকাশ করা হয় মাদকসংক্রান্ত প্রতিবেদন, ফিচার, বিজ্ঞাপন, সম্পাদকীয় ও চিঠিপত্র। কিশোর ম্যাগাজিন কিশোর আলোকে সঙ্গে নিয়ে আয়োজন করা হয় রচনা ও স্টিকার প্রতিযোগিতা। এ ছাড়া জাতীয় বা স্থানীয় যেকোনো দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত ও রেডিও-টেলিভিশনে প্রচারিত মাদকবিরোধী সংবাদকে পুরস্কৃত করা হয়।